বেনজীরের মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসেননি কেউ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৪:০২:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৪:০২:৪৯ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দুর্নীতি মামলায় আবারও আদালতে হাজির হননি কোনো সাক্ষী। এই অনুপস্থিতির কারণে বিচারিক কার্যক্রম আরও এক সপ্তাহ পেছাতে হয়েছে। আদালত আগামী ১৮ অক্টোবর নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা থাকলেও কোনো সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এর আগেও গত ১৭ আগস্ট ও ১০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষী থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে মূলত ১১ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সম্পদের তথ্য গোপন, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক এই পুলিশ প্রধান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৮৭ টাকার স্থাবর ও ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের পাহাড় সমান তথ্য পাওয়া যায়, যার মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
দুদকের সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের উৎস থেকে পাওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা এবং যাবতীয় ব্যয় বাদে তার নিট সঞ্চয় ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এই হিসেব অনুযায়ী তার মোট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।
অভিযোগপত্রে আরও জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে, এসব অবৈধ অর্থের উৎস, প্রকৃতি এবং আসল মালিকানা আড়াল করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, বেনামে গড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী কোম্পানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও নানা খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ আদালত এই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে গত ৩ মে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স